মালয়েশিয়া ভিসার দাম কত [বিভিন্ন ভিসার দাম ও কাজের বেতন]

মালয়েশিয়া ভিসার দাম সম্পর্কে বিস্তারিত
বিভিন্ন দেশের ভিসার দাম বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। আবার দেখা যায় একটি দেশের ভিসাতে আবার বেশ কিছু ভাগ থাকে।

ঠিক এরকম মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য বেশ কিছু ভিসা পাওয়া যায়। তবে আপনাকে অবশ্যই এই মালয়েশিয়া কোন ভিসার দাম কত এবং কোন ভিসা দিয়ে কি করা যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে।

সাধারণত ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকার মধ্যে মালয়েশিয়ার যেকোনো ধরনের ভিসা পাওয়া যায়। তবে স্টুডেন্ট ভিসা করতে গেলে খরচ আরো বেশ কিছু কম হয়।

যদি আপনি দালাল দিয়ে কাজ করাতে চান তাহলে আপনার অতিরিক্ত হয়রানি হতে হবে না ।শুধুমাত্র টাকা কিছু টাকা বেশি খরচ হবে । আর নিজে এসব কাজ করতে গেলে আপনাকে বেশ কিছু জায়গায় ঘোরাঘুরি করতে হতে পারে।

মালয়েশিয়া ভিসার দাম কত?

মালয়েশিয়ায় কোন ভিসার দাম কত সেগুলো নিচে এক এক করে আলোচনা করা হলো:

(পোস্টে বর্তমানে মালয়েশিয়ার কোন ভিসার দাম কত সেটা উল্লেখ করা হয়েছে , এই দাম যে কোন সময় কম কিংবা বেশি হতে পারে)

মালয়েশিয়া কাজের ভিসার দাম কত?

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় বেশিরভাগ মানুষ যায় কাজ করার জন্য। আর সেখানে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় কাজ পাওয়া যায়।

তো এই কাজের ভিসার দাম ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। যে কোম্পানিতে কাজ করবেন সেখানে আবেদন করার পর আপনাকে এই ভিসা করতে হবে।

কাজের ভিসার সমস্ত কাজ কমপ্লিট হতে এক মাসের মত সময় লাগে। তবে এর কম সময়ও লাগতে পারে।

আর এই কাজের ভিসা গুলোর মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর এর মত হয়ে থাকে।

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসার দাম কত?

মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য এই ফ্যাক্টরি ভিসা অনেক জনপ্রিয়। কারণ এই ভিসা টি কিছুটা কম দামে পাওয়া যায়। এছাড়াও এই ভিসার আন্ডারে পাওয়া কাজগুলোর বেতন ও ভালো হয়ে থাকে।

 কিছুদিন আগে এই ভিসাটি আড়াই লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা বাড়িয়ে ভিসার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তিন থেকে চার লাখ টাকা।

কিন্তু হ্যাঁ যদি আপনি ভালো প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে ভিসা করতে পারেন তাহলে তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।

মালয়শিয়া টুরিস্ট ভিসার দাম কত?

যদি আপনি মালেশিয়ায় শুধুমাত্র ঘুরতে যেতে চান তাহলে আপনাকে এই টুরিস্ট ভিসা করতে হবে। এই ভিসা করলে আপনি সেখানে কোন কাজের সুযোগ পাবেন না।

ভিসার মেয়াদ যতদিন থাকবে ততদিন পর্যন্ত দেশটিতে ঘুরতে পারবেন। সাধারণত মালেশিয়ার টুরিস্ট ভিসার দাম ৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু হ্যাঁ ভালো পরিচিত এজেন্সি এর সাহায্য নিলে তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।  

মালয়েশিয়া কৃষি ভিসার দাম কত?

মালয়েশিয়া কৃষি ভিসার চাহিদা তুলনামূলক কিছুটা কম। কারণ এই কাজের জন্য মালয়েশিয়ায় বেতনও কম পাওয়া যায়।

তবে এই কৃষি ভিসার খরচ কিছুটা কম রয়েছে। মালয়েশিয়ায় কৃষি ভিসার দাম তিন লক্ষ টাকা। কিন্তু হ্যাঁ সবকিছু খরচ যোগ করলে হয়তো আপনার ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা চলে যেতে পারে।

মালয়েশিয়া মেডিকেল ভিসার দাম কত?

মালয়েশিয়ায় রয়েছে অনেক উন্নতমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা। হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লক্ষ মানুষ মালয়েশিয়ায় শুধুমাত্র চিকিৎসা করার জন্য গিয়েছিল।

তো যদি আপনি চিকিৎসার জন্য সেখানে যেতে চান তাহলে আপনাকে মেডিকেল ভিসা বানাতে হবে। আর মালয়েশিয়া মেডিকেল ভিসার দাম ৩ লক্ষ টাকা।

সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এই ভিসার সমস্ত কাজ হয়ে যায়। আর এই বিষয়টি নেওয়ার ফলে রোগীরা মালয়েশিয়ায় ৩০ দিন অবস্থান করতে পারবেন।

মালয়েশিয়া স্টুডেন্ট বা ছাত্র ভিসার দাম কত?

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য যতগুলো ভিসা প্রদান করা হয় তার মধ্যে সবথেকে কম খরচে এই স্টুডেন্ট বা ছাত্র ভিসা পাওয়া যায়।

এছাড়াও অনেক সময় সরকারিভাবে পড়াশুনা করার জন্য এই মালয়েশিয়া স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রিতে পাওয়া যায়। তবে হ্যাঁ ফ্রি ভিসা পাওয়ার সংখ্যাটি অনেক কম।

যাইহোক মালয়েশিয়া স্টুডেন্ট ভিসার দাম ২ লাখ টাকা। এছাড়াও আরো আনুষাঙ্গিক খরচ হিসেবে আপনার ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যেতে পারে।

মোটামুটি এক মাসের মত সময় লাগে এই ভিসা প্রসেসিং কমপ্লিট হতে। আর আপনার পড়াশুনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ভিসার মেয়াদ থাকবে।

মালয়েশিয়া বিজনেস ভিসার দাম কত?

ব্যবসা করার জন্য মালয়েশিয়া দেশটি বেশ ভালো একটি জায়গা। যারা ব্যবসা করার জন্য মালয়েশিয়া যেতে চায় তাদেরকে এই বিজনেস ভিসা টি নিতে হয়।

কিন্তু হ্যাঁ এই মালয়েশিয়া বিজনেস ভিসাটির দাম কিছুটা বেশি রয়েছে। যদি আপনি ব্যবসা করার জন্য মালয়েশিয়ায় যেতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই এই বিজনেস ভিসা নিতে হবে।

মালয়েশিয়ার বিজনেস ভিসাটি ৫ লক্ষ টাকায় পাওয়া যায়। কিন্তু হ্যাঁ কিছু কিছু সময় আপনার এই ভিসা টি পাওয়ার জন্য ৬ লক্ষ টাকাও খরচ করতে হতে পারে।

মাত্র ১০ দিনের মধ্যে এই ভিসার প্রসেসিং শেষ হয় আর ভিসার মেয়াদ থাকে এক থেকে তিন মাসের মত।

মালয়েশিয়া এন্ট্রি ভিসার দাম কত?

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য এই এন্ট্রি ভিসাটি অনেক জনপ্রিয় একটি বিষয়। কারণ খুব কম সময়ের মধ্যে এই ভিসার প্রসেসিং কাজ সম্পন্ন হয়।

পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এন্ট্রি ভিসাটি পাওয়া যায়। আর এই এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন মাসের মত থাকে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অসংখ্য কাজের সুযোগ রয়েছে। আর বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ সেখানে কাজ করতে যাচ্ছে এবং ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতেছে।

এখন নিচে এই মালয়েশিয়ায় কোন কোন কাজ আছে এবং সেই কাজগুলোর বেতন কত সেটা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

মালয়েশিয়ায় ইলেকট্রিক কাজের বেতন কত?

যেহেতু ইলেকট্রনিক্স এর কাজ করতে কিছু অভিজ্ঞতা দরকার এই কারণে এই কাজটিতে একটু বেশি বেতন পাওয়া যায়।

সাধারণত মালয়েশিয়াতে একজন ইলেকট্রিক ৪৫ থেকে ৬৫ হাজার টাকা বেতন পায় । কিন্তু অভিজ্ঞতা আরও বেশি হলে ৬৫ থেকে ৮৫ হাজার টাকা ও বেতন সম্ভব।

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি কাজের বেতন কত?

ফ্যাক্টরিতে কাজ করলে আপনি ওভারটাইম কাজ করারও সুযোগ পাবেন। ওভারটাইম করেই মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেশি আয় করা যাবে।

আর এই ফ্যাক্টরিতে মূল কাজের বেতন ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা হয়ে থাকে।

মালয়েশিয়া কৃষি কাজের বেতন কত?

মালয়েশিয়াতে গিয়ে কৃষি কাজ করলে সেখানকার বেতন কিছুটা কম পাওয়া যায়। তাছাড়া কৃষি কাজে একটু কষ্টও বেশি হয়।

আপনি চেষ্টা করবেন কৃষি কাজের জন্য বাহিরের কোন দেশে না যাওয়ার। তো মালয়েশিয়ায় কৃষি কাজের বেতন সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হয়ে থাকে।

তবে হ্যাঁ কৃষি ভিসাতে মালয়েশিয়ায় কম খরচে যাওয়া যায়।

মালয়েশিয়া কনস্ট্রাকশন কাজের বেতন কত?

কনস্ট্রাকশন কাজ করার জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়া যেতে পারে কারণ এই কাজের বেতন ও বেশ ভালো পাওয়া যায়।

কিন্তু হ্যাঁ এই কাজে রিস্ক একটু বেশি থাকে তাই অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করে কাজ করতে হবে। কনস্ট্রাকশন কাজের শুরুতেই আপনি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বেতন পাবেন। তবে দীর্ঘদিন কাজ করলে এই বেতন বেড়ে ৭০ হাজার এর অধিক হবে।

মালয়েশিয়া ড্রাইভিং বেতন কত?

ড্রাইভিং করে মালয়েশিয়ায় বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। কিন্তু এই কাজটি খুব সহজে সেখানে পাওয়া যায় না।

যদি আপনি কোন বড় অফিসারের গাড়ি চালক হতে পারেন তাহলে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন।

মালয়েশিয়া পাম বাগানে বেতন কত?

মালয়েশিয়াতে কাজগুলোর মধ্যে ভালো চাহিদা কাজ এটি। এই কাজ করে খুব কম সময়ে বেশি টাকা ইনকাম করা যায়।

এখানে সাধারণত হিসেবে টাকা দেওয়া হয় । আবার বিভিন্ন আলাদা আলাদা কাজ করার সাপেক্ষে টাকা দেওয়া হয়ে থাকে। তো মালয়েশিয়াতে এই পামসি বাগানে কাজ করলে আপনার বেতন হবে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে।

মালয়েশিয়া ভিসা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: মালয়েশিয়ার মুদ্রার নাম কী?

উত্তর: রিংগিত। 

প্রশ্ন: মালয়েশিয়া কোন কাজের বেতন বেশি?

উত্তর: ফ্যাক্টরি কাজের।

প্রশ্ন: মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা বেতন কত?

উত্তর: ১৭০০ রিঙ্গিত থেকে ২৫০০ রিঙ্গিত।

প্রশ্ন: মালয়েশিয়া কোন ভিসা ভালো?

উত্তর: এম এম ২ এইচ ভিসা (এই ভিসা হল মালয়েশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভালো)।

প্রশ্ন: মালয়েশিয়ার রাজধানীর নাম কী?

উত্তর: কুয়ালালামপুর। 

প্রশ্ন: মালয়েশিয়ার ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা?

উত্তর: ২৩.৫০ টাকা।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া বিমান ভাড়া কত?

উত্তর: ক্লাসভেদে ৩৬ থেকে ৯৫ হাজার টাকা। 

প্রশ্ন: মালয়েশিয়া কোম্পানি ভিসা বেতন কত?

উত্তর: আনুমানিক প্রায় ৪০ হাজার টাকা।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া যেতে কত সময় লাগে?

উত্তর: নন স্টপ ফ্লাইটে ৩ ঘন্টা ৫৫ মিনিট এবং ওয়ান স্টপ ফ্লাইটে ১০ ঘন্টা থেকে ১৫ ঘন্টা সময় লাগে।

প্রশ্ন: মালয়েশিয়া যেতে কত বছর বয়স লাগে?

উত্তর: বয়স অবশ্যই ১৮ বছর হতে হবে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া দূরত্ব কত কিলোমিটার?

উত্তর: ৩,৭৪৮ কিলোমিটার।

প্রশ্ন: মালয়েশিয়া কোন কাজের বেতন বেশি?

উত্তর: ইলেকট্রিক্যাল কাজ।

Next Post Previous Post